বায়ু দূষণ |
পানি যেমন আমাদের জীবনধারণে অপরিহার্য একটি উপাদান, বাতাসও কিন্তু তাই। আমরা বাতাসের মধ্যেই বসবাস করি, ক্রমাগত নিঃশ্বাস নেই। দেখতে না পেলেও, বাতাসের প্রবাহ কিন্তু আমরা ঠিকই অনুভব করি। ঝড়ের সময় আমরা টের পাই অদৃশ্য বাতাসের দানবীয় শক্তি। আচ্ছা, বাতাসেরও কি দূষণ হতে পারে? এ থেকেও কি ছড়াতে পারে বিভিন্ন রোগ? চলো, একটু ভেবে দেখি!
| প্রথম ও দ্বিতীয় সেশন |
- বাতাসের মধ্যেই আমাদের বসবাস। সত্যি বলতে বাতাস, আরও স্পষ্ট করে বললে অক্সিজেন ছাড়া আমরা এক মুহূর্ত টিকতে পারি না। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আমরা বাতাস থেকে অক্সিজেন নেই । এখন একটু ভেবে দেখো তো সব জায়গায় দম নিতে কি একই রকম স্বস্তি লাগে? তোমার নিজের এলাকাতেই সব জায়গায় দম নিতে কি একই রকম লাগে?
- ৫-৬ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যাও। এবার একটু দলে বসে আলোচনা করে দেখো, নিজের এলাকায় কার কোথায় শ্বাস নিতে ভালো লাগে।
- তোমরা যখন বাসা থেকে স্কুলে আসো, কিংবা স্কুল থেকে বাসায় যাও, আসা-যাওয়ার পথের রাস্তাটার কথা ভেবে দেখো। তোমার আসার পথে কি পড়ে? বাগান বা নার্সারি যদি থাকে সেখানকার বাতাসে শ্বাস নিতে কেমন লাগে? আবার পথে যদি কোনো ডাস্টবিন বা কলকারখানা পড়ে সেখানে শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো সমস্যা হয় কি না। ভালোভাবে চিন্তা করে নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নিচের ছক পূরণ করো।
| ক্রমিক নং | দলের সদস্যের নাম | এলাকার কোথায় নিঃশ্বাস নিতে ভালো লাগে | এলাকার কোথায় নিঃশ্বাস নিতে খারাপ লাগে | কোনো বিশেষ সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য |
- তোমরা কি তোমাদের এলাকার ম্যাপ আঁকতে পারবে? এলাকা খুব ভালোভাবে না চিনলেও সমস্যা নেই, সেক্ষেত্রে শুধু বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথের আশপাশের জায়গা চিহ্নিত করেও ম্যাপ আঁকতে পারো। এবারে, ম্যাপের বিভিন্ন অংশ রং করে নাও। যেখান নিশ্বাস নিতে আরাম লাগে সেখানে একরকম রং (যেমন সবুজ হতে পারে), আবার যেখান নিশ্বাস নিতে খারাপ লাগে সেখানে আরেকরকম রং (যেমন লাল হতে পারে) দিয়ে চিহ্নিত করতে পারো। তাহলে নিচের ছকে এঁকে নাও তোমাদের এলাকার 'বাতাসের মানচিত্র'।
- দলের অন্যদের আঁকা বাতাসের মানচিত্র দেখো। তোমার মানচিত্র তাদেরকে দেখাও, তোমাদের এলাকায় কোন জায়গার বাতাসের ধরন কেমন কিছুটা কি বুঝতে পারছ? আজকে বাসায় ফেরার পথে নিশ্বাস নেয়ার বিভিন্ন স্থানের নাম নিচের ছকে লিখে রেখো।
| নিঃশ্বাস নিতে যেমন লাগে | স্থান-১ | স্থান-২ | স্থান-৩ | স্থান-৪ | স্থান-৪ |
| অনেক ভালো | |||||
| ভালো | |||||
| সাধারণ | |||||
| খারাপ | |||||
| অনেক খারাপ |
- এখন তোমাদের এলাকার একটা ম্যাপ খুঁজে বের করতে হবে। ইন্টারনেটে খুঁজে দেখতে পারো। অনেক সময় পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এলাকার ম্যাপ পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে শিক্ষকের সাহায্য নিতে পারো। ম্যাপ পাওয়া গেলে সেটা দেখে নিজের খাতায় একটা অনুলিপি তৈরি করে নাও।
- এবার খেয়াল করে দেখো যে সব এলাকায় তোমাদের শ্বাস নিতে আরাম লেগেছে সেখানে বিশেষ কি আছে? আবার যেসব জায়গায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় সেখানে বিশেষ কি বৈশিষ্ট্য রয়েছে? স্কুল ছুটির পরে তোমাদের যাদের বাসা কাছাকাছি, তারা মিলে দল গঠন করে নিজ নিজ এলাকার বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করতে পারো।
- এই সেশনে তোমরা যে যার যার এলাকার 'বাতাসের মানচিত্র' এঁকেছো, তাই না? তোমরা কি জানো এই মানচিত্র আরও বড় এলাকার জন্যও আঁকা যেতে পারে। সত্যি বলতে কি, বাতাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁরা ইতোমধ্যে এমন মানচিত্র তৈরি করে রেখেছেন। এখানে উত্তর আমেরিকার এমন একটি মানচিত্র দেয়া আছে। তোমরা কি সবাই মিলে সারা পৃথিবীর এমন মানচিত্র খুঁজে বের করতে পারবে? চাইলে তোমরা পত্রিকা কিংবা বই ইত্যাদির সাহায্য নিতে পারো। তোমাদের স্কুলে বা আশপাশে লাইব্রেরি থাকলে সেখানেও খুঁজে দেখতে পারো। কিংবা শিক্ষকের সহযোগিতাও নিতে পারো।
- তোমরা সবাই মিলে সারা পৃথিবীর 'বাতাসের মানচিত্র' খুঁজে বের করেছ, তাই না? তোমরা কি বিভিন্ন মহাদেশের কোথায় কোথায় বাতাস পরিষ্কার, আর কোথায় কোথায় দূষিত- এটা চিহ্নিত করতে পেরেছ? তোমরা সবাই মিলে একটু খুঁজে দেখো তো, বিভিন্ন মহাদেশে (এশিয়া, ইউরোপ) পরিষ্কার বাতাসের আশপাশে প্রকৃতিতে কী কী আছে? আর দূষিত বাতাসের আশপাশেই বা কী কী আছে? কোথায় নগরায়ণ বেশি, বা শিল্প কারখানা বেশি, কিংবা বনের পরিমাণ বেশি একটু লক্ষ করে দেখো। এসব তথ্যের জন্য তোমরা পত্রিকা কিংবা বই ইত্যাদির সাহায্য নিতে পারো। এলাকায় কোনো লাইব্রেরি থাকলে সেখানে খুঁজে দেখতে পারো। প্রয়োজনে শিক্ষকের সহায়তায় ইন্টারনেটের সাহায্য নাও। কী কী তথ্য পেলে লিখে রাখো।
| মহাদেশ | পরিষ্কার বাতাস কোথায় কোথায় আছে? | সেই অঞ্চলের আশপাশে কী কী আছে? | দূষিত বাতাস কোথায় কোথায় আছে? | সেই অঞ্চলের আশপাশে কী কী আছে? |
| এশিয়া |
| |||
| ইউরোপ |
| |||
| উত্তর আমেরিকা |
| |||
| দক্ষিণ আমেরিকা |
| |||
| আফ্রিকা |
| |||
| অস্ট্রেলিয়া |
| |||
| অ্যান্টার্কটিকা |
|
| তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম সেশন |
- কোনো কিছু সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ কীভাবে ছড়ায় তা আজ আমরা খুঁজে দেখব। সেজন্য সেশন এর শুরুতেই একটা এয়ার ফ্রেশনার বা আতর বা পারফিউমের বোতল খুলে শ্রেণিকক্ষের একটা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দাও।
- বাড়ির কাজ নিশ্চয়ই করে নিয়ে এসেছো। এবার বিভিন্ন দলের সাথে তোমাদের করে আনা কাজ দেখিয়ে আলোচনা করো। সবার পাওয়া তথ্য তুলনা করে দেখো পৃথিবীর কোন কোন অঞ্চলে বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি কিংবা কম। বিভিন্ন এলাকার কোন কোন বৈশিষ্ট্যের উপরে এই দূষণের মাত্রা নির্ভর করে।
- এবার এই বায়ু দূষণের কারণে কি কি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তা খুঁজে বের করার পালা। যে অঞ্চলে বাতাস দূষিত সেখানে মানুষের কি কি অসুবিধা হচ্ছে? মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন প্রাণীও উদ্ভিদ সেখানে থাকে তাদেরকে কি সমস্যা হচ্ছে সেটাও খুঁজে বের করো। এর পাশাপাশি দূষিত বায়ুর কারণে প্রকৃতির উপর আর কী কী ধরনের প্রভাব পড়ে তাও ভেবে দেখো। এইসব তথ্য জোগাড় জন্য তোমরা যথারীতি পত্রিকা বই কিংবা লাইব্রেরি সাহায্য নিতে পারো। কিংবা ইন্টারনেটেও খুঁজে দেখতে পারো। প্রয়োজনে শিক্ষকের সহযোগিতা নাও।
- সব তথ্য গুছিয়ে নিচের ছকে লিখে রাখো।
| সব তথ্য গুছিয়ে নিচের ছকে লিখে রাখো। | |
মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
| |
অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর প্রভাব
| |
প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব
|
- এবার দেখা যাক বায়ু দূষণকারী পদার্থসমূহ কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়ায়। সেশন এর শুরুতেই পারফিউমের বোতল খুলে রেখে দিয়েছিলে, মনে আছে? এই পর্যায়ে খেয়াল করে দেখ তো ঘ্রাণ পাচ্ছ কি না? এই ঘ্রাণ তোমাদের নাকে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে? ভেবে দেখো খোলা ডাস্টবিনের একটু দুর দিয়ে হাঁটলেও এর দুর্গন্ধ আমাদের নাক পর্যন্ত কীভাবে আসে?
- এই প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে বোঝার জন্য একটা ছোট্ট পরীক্ষা করে দেখা যাক। এক কাপ গরম পানিতে একটা টি ব্যাগ নিয়ে ভালোভাবে লক্ষ করে দেখো, কীভাবে আস্তে আস্তে চা পাতার রং পুরো পানিতে ছড়িয়ে যায়। তোমাদের পর্যবেক্ষণ নিচে লিখে রাখো:
| টি ব্যাগ ডোবানোর সাথে সাথে | ১ মিনিট পর | ২ মিনিট পর | ৫ মিনিট পর | |
| পানির রং |
|
- এবার আরেকটা পরীক্ষা করে দেখা যাক। একটা বেলুন ভালোভাবে ফুলিয়ে নাও এবার বেলুনের পৃষ্ঠে যেকোনো জায়গায় পেন্সিল বা আলপিন বা তীক্ষ্ণ কিছু দিয়ে সামান্য ফুটো করলে বাতাস কীভাবে ফেটে বের হয়ে যায় দেখো। এবার বেলুনের পৃষ্ঠে একটুকরো স্কচটেপ লাগিয়ে নাও। স্কচস্টেপের উপরে একইভাবে সামান্য ফুটো করে নাও। এবার কি আগের মতো হঠাৎ করে বেলুন ফেটে যাচ্ছে? নাকি আস্তে আস্তে বাতাস বের হয়ে আসছে? কেন? তোমাদের পর্যবেক্ষণ নিচের ছকে লিখে রাখো।
| বেলুনের বাতাস বের হয়ে যাওয়ার গতি (দ্রুত/ধীরে) | কারণ ব্যাখ্যা | |
| সাধারণ অবস্থায় বেলুন ফুটো করলে |
| |
| স্কচটেপ লাগিয়ে তার ওপরে বেলুন ফুটো করলে |
|
- তোমাদের ব্যাখ্যা অন্যান্য দলকে শোনাও, এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ব্যাখ্যাও শুনে দেখো। শিক্ষকসহ বাকিদের সাথে আলোচনা করো।
- এবার তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে রসায়ন অংশের পদার্থের অবস্থা অধ্যায় থেকে কণার গতিতত্ত্ব ব্যাপন ও নিঃসরণ অংশটুকু পড়ে নাও। পড়া হয়ে গেলে তোমার পাশের সহপাঠীর সাথে আলোচনা করে দেখো। আগের পরীক্ষণ দুইটির সাথে এই দুইটি ঘটনার কোনো সম্পর্ক কি খুঁজে পাচ্ছো?
- এবার বলো দেখি বাতাসে সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ ছড়ানোর সাথে এই দুইটি ঘটনার কোনটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়? তোমার উত্তর নিচে ফাঁকা জায়গায় লিখে রাখো।
- তোমার উত্তর নিয়ে শিক্ষকসহ ক্লাসের বাকিদের সাথে আলোচনা করো।
- এবার ভেবে দেখো বাতাস দূষিত হয় কোন প্রক্রিয়ায়? দূষণকারী পদার্থ কীভাবেই বা ছড়ায়? শুধু বাতাস নয়, পানি ও মাটিও তো দূষিত হয়-এই তরল ও কঠিন পদার্থেও কি একইভাবে দূষণ ঘটে?
- এই যে কঠিন তরল এবং বায়বীয় পদার্থের কথা বলা হলো, পদার্থের এই এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন কীভাবে ঘটে? আবার এক অবস্থা থেকে কীভাবে তাদের অন্য অবস্থায় নিয়ে আসা যায়? এই বিষয়গুলো জানার জন্য তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে গলন, স্ফুটন, পাতন, ঊর্ধ্বপাতন এই প্রক্রিয়াগুলো ভালোভাবে পড়ে নাও। সম্ভব হলে তোমাদের স্কুলের ল্যাবরেটরিতে অনুসন্ধানী পাঠ বইয়ে দেয়া পরীক্ষাগুলো হাতে কলমে করে দেখো।
| ষষ্ঠ সেশন |
- বাতাসে দূষণকারী পদার্থ কীভাবে ছড়ায় তা নিয়ে না হয় আলোচনা হলো। কিন্তু বাতাস দূষিত হওয়ার কারণগুলো কী কী? কোন কোন পদার্থ বায়ুতে থাকলে বায়ু দূষিত হয়? এই পদার্থগুলো কীভাবে উৎপন্ন হয়?
- তোমাদের পাশের ছকে বেশ কিছু পদার্থের নাম লেখা আছে দেখো। গবেষণা বলছে বাংলাদেশের বায়ু দূষণের পেছনে এই পদার্থগুলোর ভূমিকাই প্রধান। এখন ভেবে দেখো যে এই পদার্থগুলো কী করে উৎপন্ন হয়? এদের গঠন আসলে কেমন?
| বায়ু দূষণকারী পদার্থ | পদার্থের ধরন |
ক্ষুদ্র বস্তুকণা (PM) | বায়ু দূষণের অন্যতম উপাদান, যার সাথে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িত। এসব বস্তুকণায় বিভিন্ন উপাদান পাওয়া যায়; যেমন সালফেট ও নাইট্রেট যৌগ, অ্যামোনিয়া, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কার্বন, ধূলিকণা এবং জলীয় বাষ্প |
কার্বন মনোক্সাইড (CO) | বর্ণহীন, স্বাদহীন, গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস; মূলত কার্বনভিত্তিক ফুয়েল (যেমন: কাঠ, পেট্রোল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি) পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন হয়। |
নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2) | মূলত যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্প কারখানা থেকে উৎপন্ন হয় এই ক্ষতিকর গ্যাস। |
সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) | বর্ণহীন কিন্তু কড়া ঘ্রাণযুক্ত গ্যাস। সাধারণত ফসিল ফুয়েল পোড়ানোর ফলে বাতাসে মেশে। |
- এই আলোচনা করার আগে একদম গোড়ার আলাপ হিসেবে পদার্থের গঠনের উপর একটু আলোকপাত করা যাক। তোমরা ইতোমধ্যেই জানো পদার্থের গঠনের মূল উপাদান ইলেকট্রন প্রোটন ও নিউট্রন। এখন এই কণিকাসমূহ পরমাণুর ভেতরে কীভাবে বিন্যস্ত থাকে তা কি তোমরা জানো?
- সত্যি বলতে এই পরমাণুর বিন্যাস নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক মাথা ঘামিয়েছেন; এবং সময়ের সাথে ধীরে ধীরে পরমাণু বিন্যাস সম্পর্কে মানুষের চিন্তা অনেক স্পষ্ট হয়েছে। তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বইয়ে পরমাণুর গঠন অধ্যায়ে পরমাণুর বিন্যাস সম্পর্কে যা বলা আছে তা নিজেরা পড়ে নাও। পরমাণুর দুইটি মডেল-রাদারফোর্ড এবং বোরের মডেল; এই দুইটি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ে নিয়ে দলে আলোচনা করো। কোনো জায়গায় বুঝতে অসুবিধা হলে শিক্ষকের সাহায্য নাও।
- আলোচনা শেষে নিজের ছকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
পরমাণুর বিন্যাস সম্পর্কে রাদারফোর্ডের মডেলের মূল ধারণা কী? | |
পরমাণুর বিন্যাস সম্পর্কে বোরের মডেলের মূল ধারণা কী? | |
এই দুই মডেলের মূল পার্থক্য কোথায়? |
| বাড়ির কাজ |
- পরবর্তী তিন সপ্তাহ তোমাদের কাজ হবে এলাকার বায়ু দূষণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা। যেসব দূষণকারী পদার্থের কারণে এলাকার বায়ু দূষিত হচ্ছে এবং প্রকৃতি ও জনজীবনের উপর প্রভাব ফেলছে সেগুলোর উৎস কী কী, কোন কোন প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে এগুলো সৃষ্টি হচ্ছে এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে। উদাহরণস্বরূপ, এলাকায় ইটভাটা থেকে থাকলে সেখান থেকে কী কী দূষণকারী গ্যাস নির্গত হয়, এই সকল গ্যাসের উৎস কী, কোন কোন প্রক্রিয়াগত কারণে এই গ্যাসগুলো সৃষ্টি হচ্ছে, ইত্যাদি সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষকসহ অন্য যেকোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারো।
- তথ্য সংগ্রহের এই কাজ চলাকালে এই তিন সপ্তাহের শ্রেণিকক্ষের সেশনগুলোতে তোমরা অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পদার্থের গঠন, পর্যায় সারণি, এবং রাসায়নিক বন্ধন অধ্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পড়ে আলোচনা করবে; কেন এবং কীভাবে বিভিন্ন মৌল পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন যৌগ গঠন করে তা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করবে।
| সপ্তম ও অষ্টম সেশন |
- এর আগে তোমরা পরমাণুর রাদারফোর্ড এবং বোরের মডেল সম্পর্কে জেনেছ। তোমাদের কাজ হচ্ছে পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস এবং ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতি সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা। যথারীতি দলে বসে এই বিষয়গুলো তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পড়ে নাও। একেকটা অংশ পড়ার পরে শিক্ষকসহ ক্লাসের বাকিদের সাথে আলোচনা করো। কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে শিক্ষকের সহায়তা নাও।
- এবার কাজ হচ্ছে মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস বের করা। তোমাদের প্রত্যেক দলকে দলের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী কয়েকটি মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা জেনে এর পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস বের করতে হবে। যেমন: ৫ জন সদস্যের দল হলে ৫টি মৌল নিয়ে কাজ করবে এবং প্রত্যেক সদস্য অন্তত একটি মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস বের করবে। কোন পাঁচটি মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস বের করতে হবে তা শিক্ষক তোমাদের নির্দিষ্ট করে দেবেন।
- ইলেকট্রন বিন্যাস বের করা শেষ? কোন শক্তি স্তরের কোন উপস্তরের ইলেকট্রন কীভাবে বিন্যস্ত থাকবে তা কি দেখাতে পেরেছ? দলের প্রত্যেকের মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস নিজেরা যাচাই করে দেখো ঠিক আছে কি না। প্রয়োজনে ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতি আরেকবার দেখে নাও।
- আলোচনা হয়ে গেলে অন্যান্য দলের কাজের সাথে তোমাদের কাজ মিলিয়ে দেখো। কোনো নির্দিষ্ট মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেলে আবার যাচাই করে দেখো। শিক্ষকসহ ক্লাসের বাকিদের মতামত নাও।
| নবম ও দশম সেশন |
- যেকোনো পদার্থের গঠনের একক হচ্ছে পরমাণু। আর সেই পরমাণুতে ইলেকট্রন প্রোটন এবং নিউট্রন কীভাবে বিন্যস্ত থাকে তা তোমরা ইতিমধ্যেই জেনেছ। এখন ভেবে দেখো আমরা যখন কোনো বস্তুর ভর বলি তার অর্থ কি দাঁড়ায়? আমরা ধরে নিতে পারি বস্তুটির প্রত্যেকটি পরমাণুর একটি নির্দিষ্ট ভর আছে, এখন এই ভরটি কি এই পরমাণুর ইলেকট্রন প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের সমষ্টি? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পারমাণবিক ভর এবং আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর সম্পর্কে ভালোভাবে পড়ে নাও। এক একটা অংশ পড়ে নেওয়ার পরে সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করো, কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষকের সহায়তা নাও।
- এবার নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
- পারমাণবিক ভর এবং আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের পার্থক্য কি?
- প্রকৃতিতে কপারের দুটি আইসোটোপ হচ্ছে 63Cu এবং 65Cu এবং তার গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হচ্ছে 63.5। তুমি কি ³Cu এবং Cu -এর প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শতকরা পরিমাণ বের করতে পারবে?
- তিনটি আইসোটোপ রয়েছে এরকম একটি মৌলের গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর যদি তুমি জানো তাহলে কি তুমি তাদের প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শতকরা পরিমাণ বের করতে পারবে?
| একাদশ ও দ্বাদশ সেশন |
- আগের সেশনের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন মৌলের পারমাণবিক ভর এবং আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর নিয়ে আলোচনা করো। একইভাবে আপেক্ষিক আণবিক ভর কীভাবে বের করতে হয় তা নিয়েও আলোচনা করো। অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পড়ে নাও এবং শিক্ষকের সহায়তায় বিষয়গুলো বুঝতে চেষ্টা করো।
| ত্রয়োদশ, চতুর্দশ, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সেশন |
- অণুপরমাণুর বিস্তারিত আলোচনায় এই শিখন অভিজ্ঞতার মূল যে উদ্দেশ্য তা নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি? বায়ু দূষণ নিয়ে ছিল আমাদের কাজ। এখন বায়ু দূষণকারী পদার্থ কী কী কেন কোন নির্দিষ্ট পদার্থ নির্দিষ্ট আচরণ করে তা মূলত নির্ভর করে পদার্থের গঠনের উপরে। এই পদার্থসমূহ কোনো না কোনো এক বা একাধিক মৌলের সমন্বয়ে সৃষ্টি। এখন এসব মৌলের ধর্ম কেমন তা কীভাবে জানা যাবে?
- সত্যি বলতে মৌলের ধর্ম এবং কোন মৌল কোন মৌলের সাথে মিলে নতুন পদার্থ সৃষ্টি করে তা পুরোপুরি নির্ভর করে এর পারমাণবিক গঠনের উপরে। আর এই গঠন ও ধর্ম অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সকল মৌলকে একটি সারণিতে সাজানো হয়েছে এর নাম পর্যায় সারণি।
- তোমাদের অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পর্যায় সারণির ধারণা, পটভূমি, উদ্দেশ্য, তাৎপর্য, ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়গুলো পড়ে আলোচনা করো। আগেই বলা হয়েছে মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের উপরেই মূলত এর ধর্ম নির্ভর করে। কাজেই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা এবং ইলেকট্রন বিন্যাস জানলে পর্যায় সারণিতে তার অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। আবারো অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য এবং পর্যায় সারণিতে মৌলের অবস্থান কীভাবে নির্ণয় করতে হয় সেই নিয়মগুলো দেখে নাও। দলের অন্য সদস্যদের সাথে আলোচনা করো। এখন কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা জানলে তোমরা কি পর্যায় সারণিতে তার অবস্থান নির্ণয় করতে পারবে?
- নিচের মৌল গুলোর অবস্থান নির্ণয় করো। এবার বইয়ে দেয়া পর্যায় সারণিতে এই মৌলগুলোর সত্যিকারের অবস্থান খুঁজে বের করো। তোমার নিজের উত্তরের সাথে মিলিয়ে নাও। K, Rb, Au, Zn, Ba, Sb
- পর্যায় সারণিতে প্রত্যেকটি পর্যায়ে মৌলসমূহের ধর্মের এক ধরনের ধারাবাহিকতা রয়েছে। অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পর্যায় সারণির বাম থেকে ডানে এবং উপর থেকে নিচে বিভিন্ন পর্যায়ভিত্তিক ধর্মের হ্রাস বৃদ্ধি কীভাবে ঘটে তা পড়ো এবং আলোচনা করো। প্রয়োজনে শিক্ষকের সহায়তা নাও। শিক্ষক লটারির মাধ্যমে কোনো একটি পর্যায়ভিত্তিক ধর্ম ব্যাখ্যা করতে বললে দলের সকলে মিলে প্রয়োজনে আলোচনা করে নির্দিষ্ট ধর্মটি ব্যাখ্যা করো।
- পর্যায় সারণির কোন দিকে গেলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পাবে সেটাও লক্ষ করো।
- কোন মৌলের পরমাণুর আকার তুলনামূলক বড়ো? পরমাণুর আকার অনুযায়ী বড়ো থেকে ছোটর দিকে নিচের মৌলগুলোকে সাজাও। Ca, Br, Ds, O, Xe, Mg, Cr, Au, Ni, Si, Fr, F
তোমার উত্তর অন্যদের সাথে মিলিয়ে দেখো।
- পর্যায় সারণির বিভিন্ন মৌল কীভাবে নিজেদের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে সেই নিয়ম আলোচনার আগে মৌলের আরও একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন, তাহলে যোজনী বা যোজ্যতা।
- রাসায়নিক বন্ধন অধ্যায় থেকে যোজনী এবং যোজ্যতা সম্পর্কে পড়ে নাও এবং শিক্ষকসহ অন্যদের সাথে আলোচনা করো।
- চলো পর্যায় সারণি নিয়ে এবার একটা খেলা হয়ে যাক। নিচের নিয়ম মেনে খেলা শুরু করো।
- একজনকে ঘিরে আরও চার/পাঁচজন বসো। এভাবে কয়েকটি দল গঠন হতে পারে।
- সবার হাতেই বইয়ে উল্লেখিত পর্যায় সারণি খোলা থাকতে হবে। এবারে, প্রথমজনকে (মাঝখানে বসা) মনে মনে যেকোনো একটি মৌল বেছে নিতে বলো।
- বাকি পাঁচজন এবার তাকে প্রশ্ন করতে থাকো, এমন প্রশ্ন করবে- যেন হ্যাঁ বা না বলে উত্তর দেয়া যায়। একইজন পরপর দু'বার প্রশ্ন করবে না।
- প্রতিটি প্রশ্ন এমনভাবে করবে, যেন উত্তর থেকে পর্যায় সারণিতে মৌলটির অবস্থান সম্পর্কে আন্দাজ পাওয়া যায়। (যেমন, প্রশ্ন করতে পারো মৌলটির যোজনী কি চার? কিংবা, মৌলটির পরমাণুতে ইলেকট্রন কি তিনটি স্তরে সাজানো আছে? ইত্যাদি। সরাসরি মৌলটির নাম জিজ্ঞাসা করবে না কিন্তু)
- এভাবে দশটি প্রশ্ন করে মৌলটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করো। যত কম প্রশ্নে মৌলটিকে খুঁজে পাওয়া যায় তার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
- এক রাউন্ড খেলা হলে, আরেকজনকে মাঝে বসাও। প্রয়োজনে লটারি করে ঠিক করে নাও- কে মাঝে বসবে? তারপর আগের মতো...
| সপ্তদশ ও অষ্টাদশ সেশন |
- অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে যৌগমূলক, যৌগের রাসায়নিক সংকেত, নিষ্ক্রিয় গ্যাস ও স্থিতিশীলতা, অষ্টকের নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে পড়ে আলোচনা করো। আগের মতোই প্রয়োজনে শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে বিষয়গুলো বুঝতে চেষ্টা করো।
| ঊনবিংশ ও বিংশতম সেশন |
- অষ্টম শ্রেণিতে তোমরা বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে এসেছ। এখন একটি পদার্থ আরেকটি পদার্থের সাথে কেন যুক্ত হয়? কোন মৌল কোন মৌলের সাথে মিলে যৌগ গঠন করবে তা কিসের উপর নির্ভর করে?
- এই বিষয়গুলো বুঝতে অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বন্ধন অংশটি পড়ে নাও। আয়নিক, সমযোজী ও ধাতব বন্ধন কোন ক্ষেত্রে কোনটি ঘটে, কীভাবে ঘটে তা পড়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করো।
- বায়ু দূষণের জন্য কোন কোন যৌগ দায়ী তা তোমরা ইতোমধ্যেই জানো। এখন এই যৌগসমূহে কোনটিতে কোন ধরনের বন্ধন সে বিষয়ে দলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নাও। তোমাদের সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তিসমূহ উল্লেখ করতে ভুলো না।
| বায়ু দূষণকারী পদার্থের নাম | কোন কোন মৌলের সমন্বয়ে সৃষ্ট | কোন ধরনের রাসায়নিক বন্ধন | উত্তরের পক্ষে যুক্তি কী? |
কার্বন মনোক্সাইড (CO)
| |||
ওজোন (০3)
| |||
নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO₂)
| |||
সালফার ডাই অক্সাইড (SO₂)
|
- উদাহরণের মাধ্যমে সবার ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করো। যেসব ক্ষেত্রে অনুশীলন বইয়ে নির্ধারিত কাজ দেয়া আছে সেগুলো করো। শিক্ষার্থীদের সকলের ধারণা তৈরি হবার জন্য প্রয়োজনে মুক্ত আলোচনা করো।
- আয়নিক আর সমযোজী বন্ধন সম্পর্কে জানতে গিয়ে ধাতব বন্ধন সম্পর্কেও তো জেনেছ? সেই সুবাদে ধাতু নিষ্কাশন ও আকরিক, বিভিন্ন সংকর ধাতু কীভাবে তৈরি করা হয়, এগুলো কী কাজে আসে এই বিষয়গুলোও অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে পড়ে নাও। নিজেরা আলোচনা করো।
| একবিংশ ও দ্বাবিংশ সেশন |
- তোমাদের দলগতভাবে যে তথ্য সংগ্রহের কাজ দেয়া ছিল তার অগ্রগতি কেমন? তোমাদের পাওয়া তথ্যগুলো ক্লাসে বাকিদের দেখাও, কোন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছ তা উল্লেখ করতে ভুলো না।
- বায়ু দূষণের যে নিয়ামকগুলো সম্পর্কে জানলে তার সমাধান কী হতে পারে? যেসব দূষণকারী পদার্থের সম্পর্কে তোমরা জেনেছ, এগুলো কোথায় তৈরি হয়? কী ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার উৎপাদ হিসেবে তৈরি হয়? কী ধরনের প্রযুক্তি বা কৌশল কাজে লাগিয়ে এই ক্ষতিকর পদার্থের নিঃসরণ বন্ধ করা সম্ভব?
- দলে আলোচনা করে সমাধান কী হতে পারে ভেবে বের করো। তোমাদের পরিকল্পনা নিচের ফাঁকা জায়গায় লিখে বা এঁকে রাখো।
- তোমাদের পরিকল্পনা অন্য দলগুলোকে জানাও এবং শিক্ষকসহ সবার মতামত নাও। অন্যদের পরিকল্পনা নিয়েও মতামত দাও। পরের সেশনে প্রত্যেক দল নিজেদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। তবে এই পরিকল্পনাকে বিভিন্ন দিক থেকে খুঁটিয়ে দেখার জন্য, এবং যাচাই করার জন্য এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কিংবা স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারো যারা সরাসরি এই বায়ু দূষণ প্রতিকারে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কল কারখানার মালিক, প্রমুখ ব্যক্তিবর্গকে তোমরা আমন্ত্রণ জানাতে পারো। হতেও পারে, তোমাদের কোনো পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে সত্যিকার অর্থেই তারা তোমাদের এলাকার বায়ু দূষণের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে।
| ত্রয়োবিংশ সেশন |
- এই সেশনে তোমাদের দলের পরিকল্পনা গুছিয়ে উপস্থাপনা করো। সকল দল তাদের সংগৃহীত তথ্য উপস্থাপন করবে এবং বায়ু দূষণের ফলে এলাকার জনজীবন ও প্রকৃতির উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে তা ব্যাখ্যা করবে। এরপর তোমাদের প্রস্তাবিত সমাধান ডায়াগ্রাম বা ফ্লো চার্টে এঁকে উপস্থাপন করবে, এবং তা কীভাবে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজে আসবে তা ব্যাখ্যা করবে। পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষক তোমাদের সহায়তা দেবেন।
- আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা তাদের মতামত দেবেন। তাদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনে তোমরা নিজেদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারো।
- এই কাজের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তোমাদের কি আর কিছু করার আছে?
Read more